রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধ বাঁধানো ছিল যুদ্ধবাজ নেতাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন।

9 months ago
2

রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধ বাঁধানো ছিল যুদ্ধবাজ নেতাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন।
আজ এটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট -
যুদ্ধবাজ নেতারা বছরের পর বছর ধরে ইউক্রেনের তরুণদের পেছনে “বিনিয়োগ” করে গেছে।
ইউক্রেনের তরুনদেরকে বুঝানো হয়েছে, রাশিয়া তোমাদেরকে লুটপাট করছে, রাশিয়া তোমার ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।
আরও বোঝানো হয়েছে ইউক্রেনের রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত, রাশিয়ার দালালিতে ব্যস্ত। এদেরকে দেশ থেকে তাড়াও। রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো।
ইউক্রেনকে রাশিয়ার প্রভাব মুক্ত করার জন্য পশ্চিমারা দুই হাতে বিনিয়োগ করে গেছে।
তিনটা প্রতিষ্ঠান এই টাকা পয়সা ঢালার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল, USAID, National Endowment for Democracy (NED) এবং Open Society Foundations।
২০১৪ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানোকোভিচ রাশিয়ায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হল।
২০১৯ সালে জেলোনস্কিকে ক্ষমতায় বসানো হল।
এই জেলোনস্কির হাত ধরেই গতকাল চুক্তিটা হলো। চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেনের মহামূল্যবান খনিজ সম্পদ এখন আমেরিকার।
ইউক্রেনের এই খনিজের ভেতর রয়েছে বহু মূল্যবান critical minerals — যা আধুনিক প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অপরিহার্য।
আরও আছে, লিথিয়াম (Lithium) যা ব্যাটারি উৎপাদনে অপরিহার্য।
আছে মহা মূল্যবান নিওডিমিয়াম (Neodymium), প্রাসিওডিমিয়াম (Praseodymium) এগুলা উইন্ড টারবাইন, ইলেকট্রিক মোটর ও ডিফেন্স টেকনোলজিতে ব্যবহৃত শক্তিশালী চুম্বক তৈরিতে অপরিহার্য।
টাইটানিয়াম (Titanium) এভিয়েশন, ডিফেন্স, স্পেসক্রাফ্ট এবং চিকিৎসা যন্ত্রাংশ তৈরিতে অপরিহার্য।
ইউক্রেনের যে সব স্বপ্নবাজ তরুণ যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তারা এখন প্রাণ বাঁচাতে ইউরোপের নানা দেশে উদ্বাস্তু!
রাশিয়ার সাথে এই অসম যুদ্ধ থেকে কী পেলো ইউক্রেণ?
উত্তর হল, ৪৬ হাজার হাজার মৃত সৈন্য।
১ লক্ষ ৮০ হাজার পঙ্গু।
২০ হাজার মৃত সাধারণ মানুষ।
ঘরহারা লাখ লাখ উদ্বাস্তু পরিবার।
ইউরোপ আমেরিকায় উদ্বাস্তু ইউক্রেনীয়ানদের ঢল।
আমেরিকার কাছে হারালো দেশের মহামূল্যবান অর্ধেক খনিজ সম্পদ।
রাশিয়ার কাছে হারালো ইউক্রেনের মানচিত্রের প্রায় এক চতুর্থাংশ।

Loading comments...